আমার দুআ কেন কবুল হয় না?

দুআ মুমিনের হাতিয়ার। এই হাতিয়ার কখনও অচল হয় না। অচল হয়ে এর ধারণকারী। ধারণকারীর অপব্যবহারে হাতিয়া তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। দুআর ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই যে ভুলটা করি, তা হচ্ছে, দুআয় বাড়াবাড়ি। হাঁ, দুআতেও বাড়াবাড়ি হয়ে থাকে। কীভাবে?

আসলে চাওয়ার মাঝে কিছু সীমা-পরিসীমা থাকে। এগুলো ডিঙিয়ে গেলে তখন বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। আল্লাহ বলেছেন, 'বিনীত হয়ে সংগোপনে তোমাদের প্রভুর কাছে দুআ করো। তিনি বাড়াবাড়ি-কারীদের একেবারেই পছন্দ করেন না।' [কুরআন ৭: ৫৫]
বেশ কয়েকভাবে দুআর মধ্যে বাড়াবাড়ি হয়ে থাকে। যেমন—
(১) নিষিদ্ধ জিনিস কামনা

— আল্লাহ তাআলা নিজ প্রজ্ঞাগুণে যা নিষিদ্ধ করেছেন, হারাম করেছেন, সেই জিনিসই তার কাছে চাওয়া চরম স্পর্ধা দেখানোর শামিল। স্রষ্টার সামনে আমাদের অবস্থান কোথায়, তা যেন আমরা ভাল করে বুঝে নিই। ঘুণাক্ষরেও যেন না ভাবি, অন্য কারও চেয়ে আমার বুঝি কোনো হারাম জিনিস উপভোগের বিশেষ সুযোগ আছে। ইহুদিদের মধ্যে এই স্বভাব ছিল। তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, 'পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থের অনুসারীরা তোমার কাছে চাইবে আসমান থেকে তাদের জন্য যেন ধর্মগ্রন্থ পাঠানো হয়। ওরা তো মুসার কাছে এর চাইতেও অনেক বড় কিছু চেয়েছিল। বলেছিল, আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখাও।' [কুরআন, ৪:১৫৩]

(২) খারাপ কিছুর দুআ; তাড়াহুড়ো
—নবিজি ﷺ বলেছেন—'পাপ কাজ, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এবং তড়িঘড়ি না করলে যেকোনো ইবাদাতকারীর দুআয় সাড়া দেওয়া হয়। একজন জিজ্ঞেস করলেন, "আল্লাহর রাসূল, তড়িঘড়ি করার মানে কী?" তিনি বললেন, "ইবাদাতকারী বলে, শুধু দুআই করে গেলাম, কোনো ফল পেলাম না। এরপর সে কবুল হওয়ার আশা বাদ দিয়ে দুআ করাই ছেড়ে দেয়।' [মুসলিম, সহিহুল-জামি (৭৭০৫)]
(৩) নিরাশ
— আমাদের মধ্যে অনেক মানুষ আছে, যারা মনে করেন, আল্লাহ বুঝি তাদের দুআ কবুল করবেন না। এর পেছনে যৌক্তিক কারণ নেই। আছে কেবল তাদের অনুমান। আমাদের ঈমানের দাবী হচ্ছে আল্লাহর কাছ থেকে সবসময় সেরাটা প্রত্যাশা করব। আমাদের দুআ কবুল করবেনই—এই বিশ্বাস রাখব। অনেক পাপ করে ফেলেছি, এই চিন্তা থেকে কেউ যেন না ভাবে, আমার দুআ বুঝি আর কবুল হবে না। ইবলিসের মতো সৃষ্টির নিকৃষ্টজনের দুআও আল্লাহ তাআলা কবুল করেছিলেন। সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা রহ. চমৎকার একটা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন—

'সে বলেছিল, "আমার প্রভু, বিচার দিন পর্যন্ত আমাকে রেহাই দিন।" আল্লাহ বলেছিলেন, তোমাকে সাময়িক নিষ্কৃতি দেওয়া হলো।" (কুরআন ১৫:৩৬-৩৭) সুতরাং ইবলিসের মতো কারও দুআ যদি কবুল হতে পারে, তাহলে আমাদের পাপের পরিমাণ যত পাহাড় সমান হোক না কেন, কবুল হওয়ার আশা আছে অবশ্যই।

(৪) শুধু দুনিয়াবি দুআ
— আল্লাহ বলেন, 'মানুষের মধ্যে কিছু লোক বলে, "আল্লাহ, আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দিন।" এদের জন্য আখিরাতে কোনো অংশ নেই। আর কিছু লোক বলে, "আল্লাহ, আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দিন, আখিরাতের কল্যাণও দিন। আর জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদেরকে বাঁচান।" তারা তাদের অর্জিত অংশের পুরোটাই পাবে—আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।' [কুরআন ২:২০১-২০২]


বই : দুআ বিশ্বাসীদের হাতিয়ার
লেখক: ড. ইয়াসির ক্বাদি

Post a Comment

0 Comments